History of Sujanagar Mohila Degree College


১৯৯৮ সাল। তখন পর্যন্ত সুজানগর উপজেলায় কোন মহিলা কলেজ ছিল না। ** সুজানগরের কয়েকজন সমবয়সি যুবক  (মোঃ শাহজাহান আলী, এ.টি.এম শামসুজ্জামান, মি. তরিত কুমার কুন্ডু) সহ আরও কয়েকজন অনুভব করল পাবনা জেলার মধ্যে একমাত্র সুজানগর উপজেলাতেই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের স্বতন্ত্র কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। যার ফলে অত্র অঞ্চলের অনেক গরীব ও মেধাবী ছাত্রীরা উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যা দেশ ও জাতির জন্য শুভকর নয়। তাদের সেই সুপ্ত অনুভূতিকে বাস্তবে পরিনত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শেষ করে এলাকাতে এসে তারা তিনজন (মোঃ শাহজাহান আলী, এ.টি.এম শামসুজ্জামান, মি. তরিত কুমার কুন্ডু) এলাকার শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠির কাছে তাদের মনের আকুতি প্রকাশ করে। তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন তাঁদের বন্ধুবর্গ মোঃ আলমগীর হোসেন, মোঃ হেলাল উদ্দিন, মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, মোঃ শাসছুর রহমান চৌধুরী সহ আরও কিছু যুবক। তারাও অনুভব করল উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের আলাদা পরিসরে পড়ার জন্য একটি স্বতন্ত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে এলাকাতে এসে তরিত কুমার কুন্ডুর বাড়ীতে একটি ঘর নিয়ে এ.টি.এম শামসুজ্জামান(ডন) “ফ্রেন্ডস কম্পিউটার” নামে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে। উক্ত কম্পিউটার প্রশিক্ষন কেন্দ্র থেকেই কলেজ প্রতিষ্ঠার যাবতীয় কার্যক্রম চলতে থাকে। সেখানে বসেই উপরোক্ত যুবকগণ ব্যক্তিগতভাবে ৫০/- (পঞ্চাশ) টাকা করে চাঁদা দিয়ে খাতা ক্রয় করে এবং কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলে। এলাকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও জনগণসহ উপজেলা প্রশাসনের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যেতে থাকে। সেই সময়ের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জয়নাল আবেদীন সাহেবের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সকলেই সমবয়সী হওয়ার কারনে বয়জ্যেষ্ঠ ব্যক্তির নেতৃত্বে কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ করার জন্য তারা যোগ্য ব্যক্তির সন্ধান করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অত্র কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম তোফাজ্জল হোসেন মুন্সীর ভাই মোঃ আব্দুস ছাত্তারের (যিনি বর্তমানে অবঃ অধ্যক্ষ) কাছে মোঃ শাহজাহান আলী, এ. টি. এম. শামসুজ্জামান (ডন), তরিত কুমার কুন্ডু মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে গেলে তিনি প্রথম পর্যায়ে অসম্মতি জানালেও পরবর্তীতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস ছাত্তারের আহ্বানে সুজানগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সে সময়ের প্রধান শিক্ষক বাবু ননী গোপাল সাহার অনুমতি ও সহযোগিতায় স্কুল মিলনায়তনে বেশ কয়েকটি সভা সমাবেশ করার পর সকল নেতৃবৃন্দ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার উক্ত যুবকদের কর্মতৎপরতা দেখে নীতিগতভাবে সিন্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, সুজানগরে একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করা দরকার। পরবর্তিতে আদর্শ ক্লাবে সুধী সমাবেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ মোখলেসুর রহমানকে সভাপতি করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
বিভিন্ন পদে লোকবল নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। কলেজের জন্য জমির সন্ধান চলতে থাকে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ চলতে থাকে। এ সকল কাজে সার্বিক সহযোগিতার জন্য পাওয়া যায় সাতবাড়িয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় জনাব মোঃ ফজলুল হক স্যারকে। এ কাজে স্যারকে সর্বদা ব্যতিব্যস্ত রাখত মি. তরিত কুমার কুন্ডু ও এ.টি.এম শামসুজ্জামান (ডন)। ইতিমধ্যে সুজানগরের প্রাণকেন্দ্রেই জমির সন্ধান পাওয়া যায়। জমি ক্রয়ের জন্য যার অগ্রণী ভূমিকা ছিল তিনি হচ্ছেন এ কলেজের সাবেক নৈশ প্রহরী মরহুম রুস্তম আলী। সভাপতি মহোদয় কলেজের অধ্যক্ষ ও বিভিন্ন পদে লোকবল নিয়োগ প্রদান করলে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীদের অভিভাবকগণ কলেজের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে সভাপতির আহ্বানে জমি কেনার জন্য আর্থিক সাহায্যের  হাত বাড়িয়ে দেন। (তন্মধ্যে- মরহুম তোফাজ্জল হোসেন মুন্সী, মানিকদির, সুজানগর, পাবনা, মরহুম ঝড়– মন্ডল, চরভবানীপুর, সুজানগর, পাবনা, স্বর্গীয় তারাপদ কুন্ডু, ভবানীপুর, সুজানগর, পাবনা, মরহুম এ.কে.এম শামসুদ্দিন, কোলচরী, চরতারাপুর, পাবনা, আলহাজ মোহাম্মদ আলী প্রাং, সাং দূর্গাপুর, সুজানগর, পাবনা, আলহাজ আঃ মাজেদ ফকির, সাং কাজিপুর, আতাইকুলা, পাবনা, আলহাজ মাওঃ মোঃ আব্দুল হাই, ছোট বনগ্রাম, পুষ্পপাড়া, পাবনা সদর, চন্দ্র দাস, সাং-মানিকদির এর নাম উল্লেখযোগ্য।) কলেজের নামে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য সহযোগিতা করেন অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস সাত্তার মুন্সী (বর্তমানে অবসরে) ও তাঁর ভাই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম তোফাজ্জল হোসেন মুন্সী। বিভিন্ন পদে নিয়োগের পর কলেজ উন্নয়নের সকল কাজে সার্বক্ষণিকভাবে আত্মনিয়োগ করেন প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক কর্মচারীগণ। যে ধারা বর্তমানেও অব্যহত রয়েছে।


অধ্যক্ষ

সুজানগর মহিলা ডিগ্রী কলেজ